আসানসোল, ৩১ মার্চ -: বরাবনি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় অরিজিৎ রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দল তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন পদে কাজ করার পর এই সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর আশ্বাস, দলের বিশ্বাস রক্ষা করে বরাবনি আসন জয় করে দলকে উপহার দেবেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১ এপ্রিল আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতজন বিজেপি প্রার্থী একসঙ্গে মনোনয়ন জমা দেবেন। তার আগে একটি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সকল প্রার্থী অংশ নেবেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচনী দপ্তরে যাবেন। আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তবে তিনিও ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করবেন।
এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অরিজিৎ রায় বলেন, বরাবনি মূলত গ্রামীণ এলাকা, যেখানে এখনও বহু জায়গায় কাঁচা বাড়ি রয়েছে এবং উন্নয়নের অভাব স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালেও এখানে উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়ন হয়নি।
শ্রমিকদের অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দিয়ে ১২ ঘণ্টা কাজ করানো হলেও তাঁদের মজুরি দেওয়া হয় মাত্র ৮ ঘণ্টার। তিনি এটিকে শোষণের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন এবং এর জন্য স্থানীয় বিধায়ককে দায়ী করেন।
নির্বাচনী লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে জনগণই সর্বোচ্চ শক্তি। তাঁর বিশ্বাস, এবারের নির্বাচনে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে মত দেবে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেবে। এতদিন ভয় ও চাপের মাধ্যমে শাসন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এবার জনগণ খোলাখুলি নিজেদের মত প্রকাশ করবে।
টিকিট পেতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি দলের একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী এবং দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। দেরিতে হলেও এখন তিনি পুরোপুরি নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন এবং আগ্রাসী প্রচার চালাবেন। তিনি এই নির্বাচনী প্রচারকে “টি-২০ ম্যাচ”-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জোরদার প্রচার চালানো হবে।
ভোটার তালিকা নিয়েও তিনি দাবি করেন, বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এবারের নির্বাচন আরও প্রভাবিত হবে। তাঁর মতে, সংশোধিত ভোটার তালিকার কারণে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণ নিজেরাই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল উন্নয়নের নামে ভোট চাইছে, আর বিজেপি প্রকৃত উন্নয়নের ইস্যু নিয়েই মানুষের কাছে যাচ্ছে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 31, 2026
Rating:

No comments: