এই আবহেই এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়। তবে একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে একই দিনে দলের দুটি পৃথক কর্মসূচি হওয়ায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতভেদের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আসানসোল নর্থ ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে জিটি রোড থেকে চার্চ মোড় পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানানো হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস কাউন্সিলর এবং আসানসোল নর্থ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি এস. এম. মুস্তাফা। প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কংগ্রেস কর্মীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করেন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক প্রশ্নজিৎ পইতুনডি, পশ্চিম বর্ধমান অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের সভাপতি শাহ আলম, জেলা মাইনরিটি কংগ্রেস সভাপতি ফিরোজ খান, ওয়াজিব হুসেন-সহ বহু নেতা ও কর্মী।
অন্যদিকে একই দিনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে আসানসোলের বিএনআর এলাকা থেকে মহকুমা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং প্রশাসনের উদ্দেশে দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আইএনটিইউসি নেতা হরজিৎ সিং-সহ যুব কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মী।
একই দিনে একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের এই দুই পৃথক কর্মসূচি পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও দুই পক্ষই দাবি করেছে যে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতেই তারা আন্দোলনে নেমেছে।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের রাজ্য নেতা প্রশ্নজিৎ পইতুনডি বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে গোটা বাংলায় কংগ্রেস প্রায় ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু আসানসোল লোকসভা নির্বাচনে দল প্রায় ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে, তাও আবার জোট থাকা সত্ত্বেও। তার আশা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোটের হার আরও বাড়বে এবং দল আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 10, 2026
Rating:


No comments: