স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিরাটের হাড়াভাঙ্গা সংলগ্ন একটি ইটভাটায় কাজ শেষে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন অবিনাশ। সেই সময় বালি লোড করতে যাওয়া একটি দ্রুতগতির ডাম্পার তাকে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। যদিও পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ক্ষুব্ধ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়, আহত যুবক জীবিত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং স্থানীয়রা মৃতদেহ সামনে আনার দাবিতে অনড় অবস্থান নেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ডাম্পারের চালক গাড়িটি ফেলে দামোদর নদীর দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা ডাম্পারটি শনাক্ত করে বালিঘাট এলাকায় পৌঁছে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ডাম্পারে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিসি ধ্রুব দাস, রানীগঞ্জ থানার ওসি, নিমচা ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসরিন সুলতানা সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘটনাস্থলে এসে রাস্তায় বসে বিক্ষোভে সামিল হন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মৃতের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি বালিঘাট পরিচালনা নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিযোগ তোলেন যে, “এই বালিঘাটগুলি শাসকদলের মদতেই চলছে এবং এখান থেকে কাটমানি তোলা হচ্ছে।” যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবারে। স্ত্রী রূপালী মুর্মু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর ধাক্কায় ভেঙে পড়েছেন। তাদের তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে, যার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, মৃতের পরিবারের ন্যায্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 30, 2026
Rating:



No comments: