সালানপুর -: ইসিএলের সাতগ্রাম-শ্রীপুর এরিয়ার অন্তর্গত ভনোড়া কোলিয়ারি এলাকায় মঙ্গলবার অবৈধভাবে দখল করে থাকা সাতটি পরিবারের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে কোয়ার্টার গুলি দখলমুক্ত করা হয়। ইসিএলের সাতগ্রাম-শ্রীপুর এরিয়ার ম্যানেজার (এইচআর) গৌরব মিত্তলের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও ইসিএলের নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতিতে কোয়ার্টার গুলি খালি করে দেওয়া হয়। দখলমুক্ত করার পর কোয়ার্টার গুলির প্রধান দরজা ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ইসিএলের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
অভিযান শুরুর সময় স্থানীয় কিছু নেতা এবং দখলদারদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ দেখা যায়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ দেখানো ও বোঝানোর পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়।
এই প্রসঙ্গে ইসিএলের এরিয়া ম্যানেজার (এইচআর) গৌরব মিত্তল জানান, কয়েকটি কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানুষ অনধিকার ভাবে বসবাস করছিলেন। তাদের একাধিকবার নোটিস দেওয়া হলেও তারা কোয়ার্টার খালি করেননি। এরপর বিষয়টি আদালতে যায় এবং কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ আসে। সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার সাতটি কোয়ার্টার খালি করানো হয় এবং দরজা ভেঙে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ইসিএলের কোয়ার্টারে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তারা দ্রুত কোয়ার্টার খালি না করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইসিএলের জমি দখল করে রাখার অভিযোগ পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাবা-দাদারা বহু বছর ধরে ইসিএলে কাজ করতেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে বলা হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তাদের ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, এখন তারা কোথায় যাবেন সেই প্রশ্নই তুলেছেন তারা।
এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সহ-সভাপতি সিঁটু কুমার ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশকে তারা সম্মান করেন। তবে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। কারণ বহু বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে তাদের উচ্ছেদ করলে তারা কোথায় যাবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই আইনি বিষয় ভালোভাবে বোঝেন না এবং তাদের না বুঝিয়ে কিছু কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল নেতা অসিত সিংহ অভিযোগ করেন, বিজেপিকে খুশি করতেই ইসিএলের আধিকারিকরা এক দিনের নোটিসে কোয়ার্টার খালি করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ তারা মেনে চলেন, কিন্তু এভাবে গরিব মানুষকে সমস্যায় ফেলে খনি চালানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি এলাকায় চলা ওভারলোড ডাম্পার বন্ধ করা, খারাপ হয়ে যাওয়া রাস্তা মেরামত করা এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবিও তোলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে কোয়ার্টার বরাদ্দ করে থাকেন। এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি গরিব মানুষদের হয়রানি করা হলে এলাকায় খনি চালাতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 10, 2026
Rating:


No comments: