যীশু হেমব্রম, রানীগঞ্জ -: রামনবমী উপলক্ষে শিল্পাঞ্চল রানীগঞ্জে আয়োজিত মহাশোভাযাত্রা এ বছর এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছল। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভব্য শোভাযাত্রা শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং সামগ্রিক ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সাংস্কৃতিক শক্তির এক বিরল প্রদর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
শহরের রাজপথ জুড়ে নেমে আসে মানুষের ঢল। সংগঠনের দাবি, এক লক্ষেরও বেশি মানুষের উপস্থিতিতে এই শোভাযাত্রা রানীগঞ্জের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। শহরের প্রতিটি প্রান্ত— অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক— সর্বত্রই ছিল রামভক্তদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি। কোথাও ফাঁকা পড়েনি রাস্তা, প্রতিটি মোড়ে ছিল জনস্রোতের জোয়ার।
শনিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সভাপতি মনীশ শর্মা, সম্পাদক তেজ প্রতাপ সিং এবং প্রখণ্ড সম্পাদক বিশ্বজিৎ গোরাই যৌথভাবে জানান, “এই সাফল্য কোনও একক সংগঠনের নয়, এটি রানীগঞ্জের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ৩২টি আখড়া কমিটির নিরলস প্রচেষ্টা এই শোভাযাত্রাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয়, মোট ৩৫টি কমিটির মধ্যে ৩২টি কমিটি এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে এবং প্রায় এক মাস ধরে চলা প্রস্তুতি পর্বের মাধ্যমে নিজেদের সেরা পরিবেশন তুলে ধরে। শোভাযাত্রায় প্রতিটি আখড়া শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রেখে নিজেদের সাংস্কৃতিক কুশলতার পরিচয় দেয়, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির উদ্যোগে শীতল পানীয় ও শরবতের ব্যবস্থা ছিল লক্ষণীয়। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ শোভাযাত্রাকে অভ্যর্থনা জানায়, যা গোটা পরিবেশকে এক উৎসবমুখর আবহে পরিণত করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, “ভগবান শ্রীরামের আদর্শকে আত্মস্থ করে এই শোভাযাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করেছে। বিভক্ত পরিবার ও সমাজকে একত্রিত করার প্রেরণা দেবে এই উদ্যোগ।”
সব মিলিয়ে, রানীগঞ্জের এই মহাশোভাযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি— এটি পরিণত হয়েছে শক্তি, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের এক ঐতিহাসিক মহামিলনে, যা আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
March 29, 2026
Rating:

No comments: