জে.কে নগরে পাঁচ দিনে দুই অস্বাভাবিক মৃত্যু, অনিতা শর্মা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিআইডির ত্রিমাত্রিক মানচিত্রায়ন, নারী নিরাপত্তার দাবিতে বাম মহিলা সংগঠনের পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও
রানীগঞ্জ, পশ্চিম বর্ধমান -: পাঁচ দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জে.কে নগর ও সংলগ্ন কয়লাঞ্চলে। এর মধ্যে অনিতা শর্মার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছল সিআইডির বিশেষ ফরেনসিক দল। অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক মানচিত্রায়ন প্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে সম্ভাব্য গতিপথের মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে, নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জে.কে নগর পুলিশ ফাঁড়িতে স্মারকলিপি জমা দিল সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। কর্মসূচিতে যোগ দেন বামপন্থী ও অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর প্রথম ঘটনা এবং ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। পরপর এমন ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষত, পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি এলাকায় এক মহিলার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তে গতি আনতে কলকাতা থেকে আসা সিআইডির বিশেষ ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অংশ ত্রিমাত্রিক মানচিত্রায়ন প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করে। ঘটনাস্থলের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য গতিপথের মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে। সংগৃহীত নমুনা ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ডিসিপি ধ্রুব দাস, জামুড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিক বিজন সমাদ্দার-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, পরপর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। জে.কে নগর পুলিশ ফাঁড়িতে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন মহিলা নেত্রী কৃষ্ণা দাশগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন রেবু মুর্মু, সাধনা পাসোয়ান, শিল্পী দাস-সহ অন্যান্যরা।
এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ‘আওয়াজ’ সংগঠনের প্রতিনিধি প্রশান্ত ঘোষ এবং সিপিএমের নেতৃবৃন্দ রামচন্দ্র মাহাতো, পূর্ণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুভাষ মণ্ডল-সহ অন্যরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের দাবি, অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশি টহল, কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল ও প্রশাসনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে—প্রথমত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করা; দ্বিতীয়ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা; এবং তৃতীয়ত, এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও টহলদারি বাড়ানো।
পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করে তদন্তের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, জে.কে নগরে পরপর দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এখন তদন্তের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নজর রয়েছে এলাকাবাসীর। অনিতা শর্মার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষা ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্রায়নের ফলাফল তদন্তে কতটা সহায়তা করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা কয়লাঞ্চল।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 12, 2026
Rating:


No comments: