নিজস্ব সংবাদদাতা, অন্ডাল -: ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দু’বার ধসের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল অন্ডালের জামবাদ এলাকায়। ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার সিএল জামবাদ ইনক্লাইনের পাড়ায় সোমবার ও মঙ্গলবার ধসের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ খনি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বাড়িঘরের নীচের মাটি বসে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই রাত কাটাচ্ছেন উদ্বেগের মধ্যে।
পরপর ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইসিএলের আধিকারিকরা। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালিয়ে স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের পর সেই অংশ যথাযথ ভাবে বালি দিয়ে ভরাট না করায় মাটির নীচে ফাঁপা অংশ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই উপরিভাগের মাটিতে চাপ তৈরি হয়ে ধস নামার প্রবণতা বাড়ছে বলে তাঁদের দাবি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রযুক্তিগত সমীক্ষা জরুরি।
খনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলনের পর তৈরি হওয়া শূন্যস্থান যথাযথ ভাবে ভরাট না হলে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিধস বা সাবসিডেন্সের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কোথাও পুরনো খনি এলাকার ছাদ বা কয়লার পিলার দুর্বল হয়ে পড়লেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্ষাকালে ভূগর্ভে জল প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাঁদের কথায়, ‘‘প্রতিবার ধসের পর আধিকারিকরা আসেন, পরিস্থিতি দেখেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’
পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলি চিহ্নিত করে সমীক্ষার কথা জানানো হয়েছে।
তবে বাসিন্দাদের মূল প্রশ্ন, পরপর ধসের পরও যদি দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আরও বড় দুর্ঘটনার জন্য কি অপেক্ষা করতে হবে? এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন জামবাদের আতঙ্কিত মানুষ।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 07, 2026
Rating:

No comments: