পাণ্ডবেশ্বর, প্রতিবেদক -: বালি পরিবহনের চালান নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল পাণ্ডবেশ্বরে। গৌরবাজার-পাণ্ডবেশ্বর রাস্তায় ফুলবাগান মোড়ের কাছে রাতে বালিবোঝাই আটটি গাড়ি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গাড়িগুলির চালানে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পাণ্ডবেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে বালির উৎস, পরিবহনের বৈধতা এবং নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আটক গাড়িগুলির চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা জানতে পারেন, গাড়িগুলিতে বোঝাই বালি লাউদোহা থানার মাধাইপুর বালিঘাট থেকে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বালি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত চালান পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলি বীরভূমের সাঁইথিয়ার বলে দাবি স্থানীয়দের। অর্থাৎ, এক জায়গা থেকে বালি তোলা হলেও পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্য জেলার চালান ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই অসংগতির প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অজয় নদের মাধাইপুর বালিঘাটে সরকারি নিলামে পাওয়া মজুত বালি পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছে একটি সংস্থা। অভিযোগ, সেই বালি পরিবহনের ক্ষেত্রেই ভিন জেলার চালান ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি বাসিন্দাদের। তবে চালানের বৈধতা এবং বালির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে প্রশাসনিক তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বিতর্ক শুধু চালানেই সীমাবদ্ধ নয়। অজয় নদের পাড় থেকে যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি বালি তোলার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে বালি উত্তোলন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, অবৈধ বালি পরিবহন বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিন্তু সেই নজরদারির মধ্যেও কীভাবে অভিযোগে উল্লিখিত আটটি বালিবোঝাই গাড়ি চলাচল করছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। পরিবহনের নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এখন মূল নজর তদন্তে। আটক গাড়িগুলির চালান ও অন্যান্য নথি যাচাই করে বালির প্রকৃত উৎস, পরিবহনের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আপাতত আটটি গাড়ি পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে, চালানের এই অসঙ্গতি নিছক নথিগত ত্রুটি, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও কোনও অনিয়ম।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 10, 2026
Rating:

No comments: