মহালয়ায় মানবসেবার মধ্য দিয়ে মাতৃশক্তির আরাধনা ‘এডুকেশন ফর অল’-এর, আদিবাসী ছাত্রী ও নার্সদের হাতে পুজোর উপহার
রানীগঞ্জ -: দেবীপক্ষের সূচনা আর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস—দুই বিশেষ মুহূর্তকে একসূত্রে গেঁথে মানবিকতার অনন্য নজির গড়ল রানীগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘এডুকেশন ফর অল’। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে সুকান্ত শিশু উদ্যানে সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে সমাজের প্রান্তিক আদিবাসী ছাত্রী এবং হাসপাতালের রোগীসেবায় নিয়োজিত নার্সদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেওয়া হয়। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও উঠে আসে এই উদ্যোগে।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন কিশোরীর হাতে নতুন পোশাক, চকলেট ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পুজোর আগে নতুন পোশাক পেয়ে খুশিতে মেতে ওঠে ছাত্রীরা। একই সঙ্গে দিনরাত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত নার্সদের সম্মান জানিয়ে তাঁদের মুখেও হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্থার এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিল, উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা শুধু নিজের আনন্দে নয়, অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও নিহিত রয়েছে।
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন নাসার গবেষক তথা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিটেক্টর প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ড. তন্ময় চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চৈতালি বসু, অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপানন্দ পাল, প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার গড়াই, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রদীপ কুমার নন্দী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার মুখ্য সঞ্চালক বাসুদেব গোস্বামী।
১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে মানসিক সুস্থতার গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ‘মানসিক স্বাস্থ্য একটি সার্বজনীন মানবাধিকার’—এই বার্তাকে সামনে রেখে জানানো হয়, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রান্তিক শিশু-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত নার্স—প্রত্যেকের মানসিক ভালো থাকা এবং আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করে দেওয়াও সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গ। সেই ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে ‘এডুকেশন ফর অল’-এর এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়েও বক্তব্য রাখেন ড. তন্ময় চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে। ইসরোর সাফল্য ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রসঙ্গে সতর্ক করে তাঁর মত, দেশের গবেষণার সম্পূর্ণ ক্ষেত্রকে মুষ্টিমেয় কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। উন্নত ডিটেক্টর প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ভারতের তরুণ বিজ্ঞানীরা মহাকাশের বহু অজানা তথ্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে ‘এডুকেশন ফর অল’-এর সমাজকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. তন্ময় চট্টোপাধ্যায়। মহালয়ার আবহে আদিবাসী ছাত্রী ও সেবিকাদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দিয়ে সংস্থাটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে বার্তা দিল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দেবীপক্ষের সূচনায় এই উদ্যোগ আরও একবার প্রমাণ করল—মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বঞ্চিতের মুখে হাসি ফোটানো এবং সেবার মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত অর্থে মাতৃশক্তির আরাধনা।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 10, 2026
Rating:

No comments: