নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ -: জেকে নগর কোলিয়ারির বালকো আবাসনে এক মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিমচা ফাঁড়ির অন্তর্গত ওই আবাসন থেকে প্রায় ৫৫ বছর বয়সি এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, ঘটনার আগের রাত পর্যন্ত মৃতার সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল। পরদিন তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ার পর খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বাড়ির ভিতর থেকে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পরিবারের দাবি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘরের ভিতরে কিছু জিনিসপত্র ছড়িয়ে থাকলেও আলমারি ভাঙা বা মূল্যবান সামগ্রী চুরি যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসেনি। সেই কারণে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মৃতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও পরিবারের সদস্যদের দাবি। তবে আঘাতের কারণ এবং মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কিছু অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই বাড়ি ও জমি ছেড়ে দেওয়া বা ভাড়া দেওয়ার জন্য আগে কয়েকজন কথা বলেছিলেন। মৃতা তাতে রাজি হননি বলে পরিবারের বক্তব্য। তবে এই বিষয়ের সঙ্গে মহিলার মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের সন্দেহ, মৃত্যুর আগে মহিলার উপর নির্যাতন হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগেরও এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের পরেই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার, ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস, এসিপি সেন্ট্রাল-২ বিমান কুমার মৃধা, রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর পার্থ ঘোষ এবং নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল দুই দফায় নমুনা সংগ্রহ করে। পুলিশের ডগ স্কোয়াডও ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মৃতার পরিবারের সদস্যরা রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আবেদন জানান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলেও তাঁদের জানানো হয়েছে।
মৃতার ছেলে ও মেয়ের আবেদন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক। যদি কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কারও জড়িত থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলেয় জানা গিয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 08, 2026
Rating:

No comments: