জামুড়িয়া -: মাঝরাতে বিকট শব্দ। তার পরেই কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূকম্পনের কোনও রেকর্ড না থাকলেও ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল জামুড়িয়ার সিদুলি এলাকায়। অভিযোগ, ওই ঘটনার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার সিদুলি জামবাদ ইউনিটের খনি এলাকা থেকে বের হতে শুরু করে কালো ধোঁয়া ও গ্যাস। রবিবার ভোরের এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভোর ৪টা ১৫ থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে খনির ভিতর থেকে তীব্র বেগে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। গ্যাসের ঝাঁঝে শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালার মতো সমস্যাও দেখা দেয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কের মধ্যে নিরাপত্তার কারণে এলাকার একটি অংশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সময় খনির ভিতরে মেনটেন্যান্সের কাজে থাকা দুই শ্রমিকও আটকে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের দাবি, খনির ভিতরের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে খনি এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত বা অর্ধ-পরিত্যক্ত খনিতে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড-সহ বিভিন্ন গ্যাস জমে থাকতে পারে। কয়লার স্তরে দীর্ঘদিন ধরে তাপ তৈরি হলে স্বতঃস্ফূর্ত দহনের ঘটনাও ঘটতে পারে। ভূগর্ভস্থ ফাঁকা অংশে ধস বা ফাটল তৈরি হলে সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাও থাকে। তবে সিদুলি জামবাদ ইউনিটের রবিবারের ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। গ্যাসের উৎস এবং মাটি কেঁপে ওঠার কারণ জানতে তদন্ত জরুরি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, খনি-সংলগ্ন বসতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়। ফলে শুধু তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নয়, খনি এলাকার নিয়মিত গ্যাস পরীক্ষা, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে গ্যাসের উৎস ও ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার পর এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও খনি শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন না হয়, সে জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
Reviewed by Social Tribal News Journalist
on
October 05, 2026
Rating:


No comments: